প্রিয় পাঠক আসসালাম আ’লাইকুম। আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে সবাই ভাল আছেন। আজকে আমরা সিভি লেখার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।  সিভি লেখার সঠিক নিয়ম অবশ্যই  জানতে হবে চাকরির বাজারে টিকে থাকতে হলে ।কেননা চাকরি প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো- ভালো সিভি তৈরি করা।  আপনাকে এমন ভাবে  সিভি লিখতে জানতে হবে, যেটা দেখার পর  আপনাকে ইন্টারভিউ নেওয়ার জন্য ডাকবেই । আর আমরা সবাই কমবেশি জানি  যে– ড্রিম জব পেতে হলে আমাদের পথের সর্বপ্রথম দুইটা বাধা দেখা দেয়। তার একটি হচ্ছে ইন্টারভিউ এবং অপরটি হচ্ছে সিভি। লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন সিভির গুরুত্বটা চাকরির ক্ষেত্রে  অধিক বেশি।

সিভি কী:

সিভি বা কারিকুলাম ভিটা (Curriculum Vitae) হলো ২ – ৩ পাতার একটি ডকুমেন্ট যেখানে আপনার নিজের সম্পর্কে সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে হবে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার মূল অংশগুলোর উল্লেখ থাকে। চাকরির পরীক্ষার পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক কাজেও এর ব্যবহার রয়েছে। এটি সাধারণত ইংরেজি ও বাংলায়  লেখা হয়।

আমাদের দেশের বহু সংখ্যক মানুষ একটা ভুল করেন সেটা হলো, সিভি কম্পিউটার কম্পোজ করে চাকরির আবেদনের সময় জমা দেয়া। অনেক ক্ষেত্রে এগুলোর মান ঠিক থাকে না। তাই এ ধরনের সিভি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তার চেয়ে  চেষ্টা করলে আপনি নিজেই  মানসম্মত একটি সিভি তৈরি করতে পারবেন।

যেমন সময়ের সাথে সাথে চাহিদা পরিবর্তন হয়, তেমনি ভাবে সিভির কাঠামো ও মানের পরিবর্তন হয়। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সিভি তৈরি করতে হয়। তবে চাকরিভেদে সিভির ধরণ পরিবর্তন করতে হয়। এর জন্যে চাকরির ধরণ অনুযায়ী এটি তৈরি করে নিতে হয়। 

সিভিতে লেখার নিয়ম :

বর্তমান চাকরির বাজারে চাকরি পাওয়াটা খুবই কঠিন । তবে আপনি যদি নিজেকে যোগ্য এবং উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠনের কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরতে পারেন তাহলে আপনার চাকরি সুনিশ্চিত। আর এজন্য আপনার যোগ্যতার সম্পূর্ণটা সর্ব প্রথম সিভির মাধ্যমেই উপস্থাপন করতে হবে। 

 শিরোনাম:

আপনার সার্টিফিকেটে যেই নাম আছে তা টাইটেল বা শিরোনামে লিখতে হবে ।

অভিজ্ঞতা:

বর্তমানের সিভি  লেখার ফরম্যাটে শিরোনামের পরপরই প্রার্থীর কাজের অভিজ্ঞতার বিবরণ দেওয়া হয়। এতে  আপনার সম্পর্কে চাকরি দাতা শুরুতে জেনে যাবে। নতুনদের ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলে, চাকরির সাথে কিছুটা মিলে যায় এমন কোন কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে সেটি দিতে পারবেন।

ক্যারিয়ার লক্ষ্য:

ক্যারিয়ার লক্ষ্য চাকরির সাথে মিল রেখে  তৈরি করে নিতে হয় । কারণ চাকরিভেদে এটি পরিবর্তন করতে  হয়। আপনি যে কোম্পানীতে জবের জন্য আবেদন করবেন সেটার সাথে মিল রেখে  ক্যারিয়ার লক্ষ্য স্থির করতে হয় । এতে চাকরিদাতা আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদাভাবে দেখবে। যদি  কোম্পানীর লক্ষ্যের সাথে আপনার ক্যারিয়ার লক্ষ্য মিলে যায়, তাহলে আপনার জন্য চাকরীটা পাওয়া প্রায় নিশ্চিত হয় ।

শিক্ষাগত যোগ্যতা :

চাকরির জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা একটি প্রধান শর্ত। শিক্ষাগত যোগ্যতা সিভিতে লেখার সময় একদম সাম্প্রতিক যে ডিগ্রি অর্জন করেছেন সেটি প্রথমেই  লিখুন। এরপর বাকিগুলো ধারাবাহিক ভাবে লিখুন। অনার্স/মাস্টার্স বা অন্যন্য ডিগ্রির নাম, পঠিত বিষয়, প্রতিষ্ঠানের নাম, এবং পাসের বছর শিক্ষাগত যোগ্যতায় অবশ্যই সন্নিবেশ করতে হবে।

স্কিল বা দক্ষতার:

 আপনার যদি কোন দক্ষতা এবং কৌতুহল থেকে থাকে সেটি অবশ্যই সিভিতে অন্তর্ভুক্ত করুন। এতে আপনার সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের আরো বিস্তারিত জানার সুযোগ সৃষ্টি হয়। স্কিল বা দক্ষতার মধ্যে সাধারণভাবে মাইক্রেসফ্টের অফিস প্রোগ্রাম ,ওয়ার্ড, এক্সেল,পাওয়ারপয়েন্ট ইত্যাদি জানা। এছাড়া কম্পিউটার, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইংরেজি স্পোকিং, যোগাযোগ ইত্যাদি দক্ষতা সমূহ অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। আপনার যদি কোন বিষয়ে অধিক কৌতুহক  আছে তাও বর্ণনা করতে পারেন।

ব্যক্তিগত তথ্য :

ব্যক্তিগত তথ্যে আপনার নাম, মাতা-পিতার নাম, জন্ম তারিখ, জাতীয়তা, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম, ওজন, উচ্চতা, ভোটার আইডি কার্ড নাম্বার, স্থায়ী/অস্থায়ী ঠিকানা বিষয়গুলো অবশ্যই থাকতে হবে। 

যোগাযোগ: 

সিভির একটি গুরুত্বপূর্ন অংশ যোগাযোগ। এতে আপনার নামের সাথে মিল হয় এমন একটি ইমেইল ঠিকানা ব্যবহার করুন। এছাড়াও আপনার মোবাইল নাম্বার,   ফেসবুক আইডি লিংক অথবা লিংকডইন আইডি দিতে পারেন। ফলে চাকরিদাতা আপনার সম্পর্কে সামাজিক সাইটে বিশদভাবে জানতে পারবে।

রেফারেন্স :

রেফারেন্স চাকরি প্রার্থীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার পরিচিত উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এমন কাউকে রেফারেন্স হিসেবে দিতে পারেন। তবে রেফারেন্স দেওয়ার আগে তাঁর কাছ থেকে অবশ্যই আপনাকে অনুমতি নিতে হবে। রেফারেন্স অংশে সেই ব্যক্তির নাম, মোবাইল নাম্বার, এবং ইমেইল আইডি ব্যবহার করুন ।

স্বাক্ষর :

 সিভির একদম শেষে আপনার হাতে লেখা স্বাক্ষরের ছবি তুলে দিতে হবে। আবার নিচে অবশ্যই টাইপ করে  আপনার নাম লিখতে হবে।

সিভির  ফরম্যাট :

সঠিক নিয়মে সিভি লিখতে চাইলে অবশ্যই সিভির  ফরম্যাট  মাথায় রাখবেন এবং নির্ভুলভাবে করার চেষ্টা করবেন।

  • অধিকাংশ চাকরির জন্য  সিভি ১-২ পেইজের বানানো যথেষ্ট।
  • ‘A4’ সাইজের পেইজ ব্যবহার করতে হবে ।
  • টাইমস নিউ রোমান, অ্যারিয়্যাল বা ভারদানা ফন্ট ব্যবহার করতে পারেন
  • লেখা ১১/১২ ফন্টের সাইজ বেছে নিন।
  • ১-২ ধরনের ফন্ট কালারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকুন।
  • সিভির অংশগুলোকে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে ১৪- ১৬ সাইজের ফন্ট সাবহেডিং ব্যবহার করুন।
  • সিভি পড়ার সুবিধার জন্য বুলেট পয়েন্ট ব্যবহার করতে পারেন। তবে সারাংশের জন্য এটি প্রযোজ্য হবে না।
  • দুই লাইনের মধ্যে যথেষ্ট স্পেসিং বজায় রাখুন।
  • বিশেষ কোন প্রয়োজন ছাড়া সিভির ডিজাইনে বৈচিত্র্য নিয়ে আসা থেকে বিরত থাকুন। নিয়োগদাতার কাছে ডিজাইন দৃষ্টিকটু লাগলে হিতে বিপরীত হবার সম্ভাবনা থাকে ।

আরো পড়ুন :চিয়া সিডের পুষ্টিগুণ এবং চিয়া সিডের খাওয়ার নিয়ম

পরিশেষে :

বলা যায় যে ,সিভিতে কোনো অবস্থাতেই ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া যাবে না।  আপনাকে অবশ্যই সঠিক ও নির্ভুল তথ্য প্রদান করতে হবে। আমরা সচরাচর স্মার্টনেস প্রকাশ করতে গিয়ে বেশ কিছু শব্দ সিভিতে ব্যবহার করে ফেলি যেগুলো নিয়োগ দাতাদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এক্ষেত্রে সিভিতে এমন সকল শব্দ না রাখার চেষ্টা করবেন। 

Write A Comment